বিশ্ব বাবা দিবসে বাবা-মাকে নিয়ে কিছু কথা





বিশ্ব বাবা দিবসে পৃথিবীর সকল বাবা-মার প্রতি হাজার সালাম ও কিছু কথা


বিশ্ব বাবা দিবসে বাবা-মাকে নিয়ে কিছু কথা

পিতা-মাতার অধিকার ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ তেমনি মানবাধিকার দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। 

সন্তানের জন্য বাবা-মা আল্লাহরতালার দেয়া বিশেষ নিয়ামত। সন্তানের সুখের জন্য বাবা-মা সকল দুঃখ-কষ্ট আনন্দের সাথে বরণ করে নেয়। প্রতিটি বাবা-মা তাদের সামর্থ অনুযায়ী প্রতিটি সন্তানের জন্য নিজের জীবন বিসর্জন  দিয়ে হলেও সন্তানের অনাবিল সুখ-শান্তি কামনা করে খাকে। বাবা-মা সন্তানদের প্রতি যে আবেগীয় দায়িত্ব পালন করেন, যে আদর-স্নেহ ও ভালবাসা দিয়ে থাকেন তা দুনিয়ার কোনকিছুর সাথেই তুলনা করা সম্ভব নয় এবং তার প্রতিদানও দেয়া সম্ভব নয়। 


বাবা-মায়ের সেবা-যত্ন করা, যথাযথ দায়িত্ব পালন করা প্রতিটি সন্তানেরই একান্ত কর্তব্য। দুনিয়ার সকল ধর্মই বাবা-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, ভক্তি ও সম্মানের সহিত আচরণ বা সদ্ব্যবহার করতে আদেশ দিয়েছি। কোন ধর্মই বাবা-মায়ের সাথে খারাপ বা অসৎ আচরন করতে বলেনি। ইসলাম ধর্ম মতে বাবা-মায়ের সন্তষ্টি অর্জন করতে পারলেই, মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তষ্টি অর্জন করা সম্ভব।

বিশ্ব বাবা দিবসে বাবা-মাকে নিয়ে কিছু কথা

বাবা-মা যে কত বড় নিয়ামত তা আমরা অনেকেই বুঝতে পারি না। যেসব ছেলে-মেয়েরা ছোটবেলায় বাবা-মাকে হারিয়েছে, বাবা-মার আদর-স্নেহ ও নির্মল ভালবাসা হতে বঞ্চিত হয়েছে, তারাই ভালো বুঝতে পারে বাবা-মা সৃষ্টিকর্তার কতবড় নিয়ামত। বেঁচে থাকতে অনেকের কছেই বাবা-মায়ের কোন গুরুত্ব থাকে না, অনেকেই বাবা-মায়ের অবদানের কথা ভুলে যায় বা বুঝতে চেষ্টা করে না। আমাদের সমাজের বেশিরভাগই মানুষই মনে করে তাদের বাবা-মা তাদের জন্য তেমন কিছু করে নাই, তাই বৃদ্ধ বাবা-মাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে। কিন্তু সে নিজে যখন বাবা-মা হয়, তখন ভাবতে পছন্দ করে যে সে তার সন্তানের প্রতি সকল দায়িত্ব পালন করছে, অনেক বেশি আদর-স্নেহ ও ভালবাসা দিয়েছে সুতরাং তার সন্তান তাকে কখনো ছেড়ে যাবে না, অবজ্ঞা করবে না, তার প্রতি কঠোর হবে। প্রতিটি জীবই তার সন্তানকে আদর-যত্নে লালন-পালন করে থাকে এমনকি কুৎসিত কাকও তার সন্তানকে পরম আদরে পোষণ করে থাকে। পৃথিবীর ধনী, গরীব সকল বাবা-মায়ের কাছে তার সন্তান সবচেয়ে প্রিয়, রাজপুত্র বা রাজকন্যা্। নিজে না খেয়ে সন্তানকে খাওয়ায়, সন্তানের জীবনের উন্নতি, প্রতিষ্ঠার জন্য আপ্রান চেষ্টা করে। 



আমাদের প্রিয় নবী রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, সন্তানগন হজ্জের সমান সওয়াব পাবে যদি  বাবা-মায়ের  সেবা-যত্ন করে, তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করে, এবং তাদের প্রতি সঠিকভাবে দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করে। তিনি বলেছেন, সন্তান যখন বাবা-মায়ের দিকে রহমতের দৃষ্টিতে দেখে তখন মহান আল্লাহ তায়ালা তার প্রতিটি দৃষ্টির বিনিময়ে একটি করে হজ্জের সমান সওয়াব লিখে দেন।এই হাদিস থেকে প্রমাণিত হয়, বাবা-মা কতবড় নিয়ামাত! তাই প্রতিটি সন্তাদের উচিত বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করা। 


যে সন্তান বাবা-মাকে অবহেলা করে, অমান্য করে ও কোন প্রকার দায়িত্ব পালন করে না, তাদের মত হতভাগ্য মানুষ পৃথিবীতে আর কেউ নাই। হয়ত কিছু বাবা-মা আছেন যারা সন্তানের প্রতি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়ে থাকেন, তারপরও বাবা-মা প্রতি সকল সন্তানেরই দায়িত্ব-কর্তব্য পালন উচিত, কারণ তারাই তাকে পৃথিবীর পথ চিনিয়েছেন।


যাদের বাবা-মা বেঁচে আছে তাদের প্রতি অনুরোধ আজ থেকে আপনারা আপনাদের বাবা-মায়ের সাথে সদ্ব্যবহার করুন ও দায়িত্ব পালন করুন। আর যাদের বাবা-মা ইহকাল ছেড়ে পরকালে চলে গেছে, আপনারা আপনাদের বাবা-মায়ের জন্য মহান আল্লাহতালার নিকট দুহাত তুলে দোয়া করুন যে, তারা যদি কোন গুনাহ করে থাকে মহান আল্লাহতালা যেন তাদের মাফ করে দেন, তাদেরকে শান্তিতে রাখেন ও জান্নাতবাসী করেন।



বিজ্ঞাপন




আমাদের ফেসবুক পেজ @NURStudioBD

আমাদের লাইফস্টাইল বিষয়ক ইউটিউব চ্যানেল AUHStyle


আরও একটি সম্পর্কিত পোস্ট পড়ুন  বিশ্ব বাবা দিবস আজ


মন্তব্য