করোনাভাইরাস থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার উপায়




করোনাভাইরাস থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার উপায়


করোনাভাইরাস থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার উপায়

একটি নতুন ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট সংক্রামক রোগ করোনাভাইরাস (COVID-19)। এই রোগটির লক্ষণ ফ্লুর মতো যেমন- কাশি ও জ্বর হয়ে থাকে তবে এর মারাত্মক অবস্থায় শ্বাস নিতে অসুবিধা দেখা দেয়। করোনভাইরাস রোগ প্রাথমিকভাবে সংক্রামিত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও যখন কোনও ব্যক্তি অজান্তে ভাইরাস রয়েছে এমন কোনও বস্তু বা প্রাণীর সংস্পর্শে এসে যদি সে নিজের চোখ, নাক বা মুখে স্পর্শ করে তখনও সে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। 


ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত রাখার উপায়


করোনাভাইরাস
করোনাভাইরাস

করোনাভাইরাস (COVID-19) এর প্রতিরোধের জন্য কোনও ভ্যাকসিন এখন পর্যন্ত তৈরি হয়নি। তাই নিজেকে রক্ষা এবং অন্যকে ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়া থেকে বিরত রাখতে করণীয় কাজ গুলো হল:

১) সাবান, পানি বা অ্যালকোহল ভিত্তিক হ্যান্ড স্যানেটাইজার দিয়ে ২০ সেকেন্ড ধরে নিয়মিত হাত ধুয়ে নিন। এতে আপনার হাতের ভাইরাসটি মরে যাবে।

২) শ্বাস-প্রশ্বাসে নিজেকে হাইজিন রাখুন। যেমন- কাশি বা হাঁচির সময় ডিস্পোজেবল টিস্যু বা কনুই এর ভাজে আপনার নাক এবং মুখটি ডেকে রাখুন। এবং ব্যবহৃত টিস্যু নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন।

৩) অসুস্থ ব্যক্তিদের থেকে কম করে ১ মিটার বা ৩ ফুট দুরত্ব বজায় রাখুন। কারণ, কাশি বা হাঁচি দেয়ার সময় নাক বা মুখ থেকে ফোঁটা বা স্প্রের মতন ছোট তরল পানি বের হয় যার মধ্যে ভাইরাস থাকতে পারে। যদি আপনি অসুস্থ ব্যক্তির খুব কাছাকাছি থাকেন, তবে শ্বাসের মাধ্যমে এই ভাইরাস আপনার ভিতরে প্রবেশ করে আপনাকে আক্রান্ত করে ফেলবে। 

৪) আপনার হাত পরিষ্কার না থাকলে আপনার চোখ, নাক বা মুখে ভুলেও স্পর্শ করবেন না। হাত ভাইরাস বা দুষিত বস্তুর স্পর্শে থাকতে পারে যা ভুল করে চোখ, নাক বা মুখের সংস্পর্শের মাধ্যমে ভাইরাসটি শরীরে স্থানান্তর হতে পারে।

৫) যদি অসুস্থ বোধ করেন তবে নিজের বাড়িতেই থাকুন এবং অন্যদের থেকে নিজেকে দুরে রাখুন। যদি জ্বর, কাশি এবং শ্বাস নিতে সমস্যা হয় তবে চিকিৎসক বা স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশাবলী অনুসরণ করুন (WHO)।

আরও পড়ুন পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত পাঁচটি ফুল

আমাদের দেশে আস্তে আস্তে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, এজন্য আমাদেরকে যথাসম্বভ সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কেমন এটা নির্দিষ্ট ভাবে বলা যায়না, তবে ধরে নেয়া যায় যে ৪০ এর বেশি বয়স এবং ১৫ এর কম বয়স যাদের তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। যারা ধূমপান করে, যাদের কো-মর্বিডিটি আছে যেমন- অ্যাজমা, ডায়বেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। তাই বলে যাদের ১৫-৪৫ বয়স তারা ভাইরাসে আক্রান্ত হবে না এই ভেবে নিজেকে অপরিষ্কার রেখে অজান্তে বাহির থেকে জীবানু নিয়ে আসলে তাতে আপনার পরিবার ও পরিজনই আক্রান্ত হয়ে পড়তে পাড়েন।

আরও পড়ুন প্রাথমিক চিকিৎসা: আগুনে বা তেলে পোড়ার পর করণীয়

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

তাই আমরা সচেতন হই, নিজেই নিজেকে এবং বাসার সবাইকে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাওয়া থেকে বিরত রাখি। বাহির থেকে ফিরেই সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে ঘষে ঘষে কনুই পর্যন্ত হাত ধুয়ে নিব। বাহিরে গেলে মাস্ক ব্যাবহার করবো, সিঁড়ির হাতল ধরে হাঁটবো না, লিফটের বাটন সম্ভব হলে কনুই দিয়ে চাপব। যেখানেই যাই না কেনো যথাসম্ভব কোন কিছু ধরা থেকে বিরত থাকবো। হাঁচি কাশি হলে অবশ্যই রুমাল ব্যাবহার করবো, হাতের তালু দিয়ে ঢাকবো না।

মনে রাখবেন, সুস্থ্য থাকার জন্য সবার আগে নিজ এবং নিজের পরিবারের কথা ভাবতে হবে।

তথ্য সুত্র: World Health Organization

লেখক/অবদানকারী: অবদানকারী পৃষ্ঠাটি পড়ুন

বিজ্ঞাপন





আমাদের ফেসবুক পেইজ @NURStudioBD

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল @Cooking,Health,&Beauty

আরও একটি সম্পর্কিত পোস্ট পড়ুন করোনাভাইরাস: নিজেকে সুরক্ষিত রাখার উপায়


মন্তব্যসমূহ